মেনু নির্বাচন করুন

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

ইউআইএসসি থেকে ইউডিসি:-

গত ১১নভেম্বর ২০১০খ্রি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইউআইএসসি (ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র) একযোগে সারা বাংলাদেশে উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ইউআইএসসি সুনামে সন্তোষ্ট হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্র ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ইউআইএসসির নাম পরিবর্তন করে ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) রাখেন।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার কী কেন?

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হচ্চে ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর একটি অত্যাধুনিক তথ্য ও জ্ঞান কেন্দ্র (টেলিসেন্টার) যার উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় তথ্য সেবা নিশ্চিতকরা। এ কেন্দ্র থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ খুব সহজেই তাদের বাড়ীর কাছে পরিচিত পরিবেশে জীবন ও জীবিকা ভিত্তিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পায়।

গত ১১নভেম্বর ২০১০ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিস হেলেন ক্লার্ক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সকল ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র(ইউআইএসসি) এক যোগে উদ্বোধন করেন। এ সকল কেন্দ্র থেকে মাসে প্রায় ৪০লক্ষ মানুষ তথ্য ও সেবা গ্রহণ করছে। ইউআইএসসির মাধ্যমে সহজে, দ্রুত ও কম খরচে সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাবার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমানের ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। জনগণেরদোড়গোড়ায়সেবা’ (Service at Doorsteps)-‘এম্লোগানকে সামনে রেখে ইউআইএসসির যাত্রা শুরু হয়। ইউআইএসসি প্রতিষ্ঠার ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি করা সম্ভবপর হয়েছে, যেখানে মানুষকে আর সেবার জন্য দ্বারেদ্বারে ঘুরতে হচ্ছেনা, বরং সেবাই পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায়। অবাধ তথ্যপ্রবাহ জনগনের ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। দেশের ৪,৫০১টি ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র স্থাপনের ফলেগ্রামীণ জনগণের অবাধ তথ্যপ্রবাহে অংশ গ্রহণ সহ দ্রুত তম সময়ে তথ্য ও সেবা পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

উপকরণ:

এলাকার সর্ব সাধারণের জন্য উন্নত তথ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ইউআইএসসিতে একাধিক কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ টউপকরণ রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে  এবং হচ্ছে। ইউআইএসসির প্রয়োজনীয় উপকরণ আসে উদ্যোক্তার বিনিয়োগ এবং ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল (রাজস্বখাতওএলজিএসপিপ্রকল্প) থেকে। নূন্যতম স্ট্যাবিলাইজারসহ একটি কম্পিউটার, একটি সাদাকালো প্রিন্টার, একটি কালার প্রিন্টার, অন-লাইন সংযোগস্থাপনের  জন্য একটি মডেম, একটি স্ক্যানার, একটি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে একটি ইউআইএসসি-এর কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু করা সম্ভব।তবে পূর্ণাঙ্গ ইউআইএসসি পরিচালনার জন্য নিম্নলিখিত উপকরণ দরকার- একাধিক কম্পিউটার (ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ) বড় স্ক্রিনসহ ১টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্ট

  • ১টি লেজার প্রিন্টার
  • ১টি কালার প্রিন্টার 
  • ১টি মডেম
  • ১টি স্ক্যানার মেশিন
  • ১টি লেমিনেটিং মেশিন
  • ১টি ফটোকপি মেশিন
  • ১টি ডিজিটাল ক্যামেরা
  • ১টি ওয়েবক্যাম
  • ১টি জেনারেটর  

স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে কোন ইউআইএসসিতে উপরকরণ এর চেয়ে কম বা বেশি থাকতে পারে।

ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে পিপিপিপি(পাবলিক-প্রাইভেট-পিপলস পার্টনার শীপ) মডেলের উপর ভিত্তি করে। প্রতিটি ইউআইএসসিতে দু’জন করে স্থানীয় তরুন উদ্যোক্তা রয়েছে, যাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী। এউদ্যোক্তারা ইইউআইএসসিপরিচালনা করে থাকেন। কিছুকিছু কেন্দ্রে একজন নারী ও একজন পুরুষ উদ্যোক্তার পাশাপাশি আরো একজন করে নারী ও পুরুষ‘ বিকল্প উদ্যোক্তা’ হিসেবে কাজ করছে। উদ্যোক্তা ইউআইএসসি’র বেতন ভুক্ত কর্মী নন, প্রতিটি ইউআইএসসি’র আয়- ইউদ্যোক্তার আয়। ইউআইএসসি’তে উদ্যোক্তা একজনবিনিয়োগকারী ও বটে।

পার্টনার শীপ বা অংশীদারিত্ব:

স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে ইউআইএসসি সমূহ পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ইউআইএসসি’র তদারকিসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইউআইএসসি’র প্রয়োজনীয় আইসিটি উপকরন ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের অর্থ আসে এলজিডি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) থেকে। এছাড়া ও বিসিসি ১০১৩টি বিদ্যুতবিহীন ইউনিয়নে সোলার প্যাণেল সরবরাহ করে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এসেছে। এর বাইরে একাধিক ব্যাংক-বীমা, মোবাইল কোম্পানী, এনজিও, শিক্ষা-গবেষনা প্রতিষ্ঠান, হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার সমিতি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, নতুন দক্ষতা ও কারিগরী সহায়তা নিয়ে ইউআইএসি’র সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

ইউএএমএস বা ইউআইএসসি এ্যাকটিভিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:

ইউআইএসসি উদ্যোক্তাদের আয়ের হিসাব এবং স্থানীয় প্রশাসনের ফলো- আপে সহযোগিতা করার জন্য ইউআইএসসি কার্যক্রম ব্যবস্থাপনাবা ‘ইউএএমএস’ (http://114.130.54.229/) নামে একটি অনলাইন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। ইউআইএসসি উদ্যোক্তারা তাদের প্রতিদিনকার আয়ের তথ্য এখানে আপলোড করে থাকেন

ব্লগ(uiscbd.ning.com):

উদ্যোক্তাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, আন্ত: সম্পর্ক স্থাপন এবং উদ্যোক্তাদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে দ্রুত যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয়েছে ইউআইএসসিব্লগ (uiscbd.ning.com)। ব্লগটি সারাদেশে বিস্তৃত ৪,৫০১টি ইউআইএসসি’র ৯,০০২জন উদ্যোক্তার জন্য এমনই একটি শক্তিশালী অনলাইন প্লাটফরম, যেখানে উদ্যোক্তারা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করার, সমস্যা চিহ্ণিত ও তার সমাধান খোঁজার, সমবেত ভাবে উদ্যোগ গ্রহণের, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে কাজ করার, এমনকি প্রয়োজনে নীতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে।